গতকাল সোমবার রাতে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম আশিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। সেই সাথে অভিযুক্ত সৈয়দ আকিবকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারেরজন্য ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে ঐ বিজ্ঞপ্তিতে।

গতকাল তালা সরকারি কলেজের একটি কক্ষে ২০ বছর বয়সী কলেজছাত্র শোয়েব আজিজ তন্ময়কে অপহরণ করে মারপিট ও বিবস্ত্র করে ভিডিওচিত্র ধারণের অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা নির্যাতনের একপর্যায়ে ওই ছাত্রের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এ সময় শোয়েব আজিজের পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নির্যাতনের শিকার কলেজছাত্র শোয়েব আজিজ, তালা সদরের জাতপুর গ্রামের শেখ আজিজুর রহমানের ছেলে। তিনি চলতি বছর জাতপুর টেকনিক্যাল কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য খুলনায় কোচিং করছেন। শোয়েব আজিজের বাবা শেখ আজিজুর রহমান গত রোববার রাতে উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আকিব, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র চক্রবর্তী, ছাত্রলীগ কর্মী জে আর সুমন, জয় ও নাহিদ হাসানের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী আজিজুর রহমান বলেন, তাঁর ছেলের সঙ্গে আসামিদের কোনো বিরোধ নেই, একসঙ্গে পড়েনও না। হঠাৎ রোববার বেলা একটার দিকে পূর্বপরিচিত নাহিদ হাসান মুঠোফোনে ছেলেকে ডেকে নিয়ে যান তালা সরকারি কলেজের সামনে। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় কলেজের একটি কক্ষে। সেখানে নিয়ে শোয়েব আজিজকে মারপিট করা হয়। মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয় এমনকি বিবস্ত্র করে ভিডিওচিত্র ধারণ করা হয়। আজিজুর রহমান আরও বলেন, ‘তারপর আমার স্ত্রীর কাছে ফোন করে ছেলেকে ফিরে পেতে দুই লাখ টাকা নিয়ে কলেজের সামনে যেতে বলা হয়। ওপ্রান্ত থেকে ছেলেকে মারপিটের চিৎকার শোনাচ্ছিল তারা। একপর্যায়ে আমার ছেলের একটি মেসেজের মাধ্যমে জানতে পেরে আমার ভাইপো ও কয়েকজন আত্মীয় ওই কলেজ থেকে তাকে উদ্ধার করে। আমার ছেলের জীবনটা নষ্ট করে দিল।’এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আকিব বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়নি। তন্ময় আমার এক চাচাতো বোনকে “থ্রেট” করেছে। এ জন্য রাগের মাথায় তাকে মারপিট করা হয়েছে। তবে তার মায়ের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা চাওয়ার কথা ঠিক নয়।’ অন্যদিকে, নির্যাতনের শিকার শোয়েব আজিজ বলেন, নাহিদ হাসান তাঁর পূর্বপরিচিত। তালা বাজারে যাতায়াতের সুবাদে পরিচয়। তাঁকে ফোন করে ডেকে নিয়ে আকস্মিকভাবে মারপিট শুরু করেন আকিবসহ অন্যরা। কলেজের পশ্চিম পাশে একটি কক্ষের মধ্যে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন চালান। হাত–পায়ে নির্মমভাবে মারপিট করে মাথা ন্যাড়া করে দেন। এরপর বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করেন। তারপর বাড়িতে ফোন দিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন তাঁরা। তাঁরা সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।







Users Today : 19
Users Last 30 days : 1430
Total Users : 23741
Total views : 36312
Who's Online : 1