
২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলেদ ধরেন।
তিনি জানান, আলোচিত ঐ সংঘর্ষে ঘটে যাওয়া দুইটি হত্যা মামলার তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট পাঁচ শিক্ষার্থীকে আমরা গ্রেফতার করেছি।
গ্রেপ্তারকৃত ছাত্ররা হলেন – ঢাকা কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আব্দুল কাইয়ূম ও পলাশ, সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্র ইরফান, বাংলা বিভাগের ছাত্র ফয়সাল ও ইতিহাস বিভাগের জুনায়েদ ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃত ৫ জন কুরিয়ার সার্ভিসকর্মী নাহিদ হত্যায় প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেয় বলেও জানান তিনি। এর আগে ডিবির পৃথক অভিযানে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ইমন ও কাইয়ুম। এদের মধ্যে ইমনকে ঢাকা কলেজ থেকে এবং কাইয়ুমকে পঞ্চগড় থেকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে পুলিশ বলছে, নিহত নাহিদ গত ১৯ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের পক্ষ হয়ে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়ান। একটি বড় ছাতার পাশে থেকে সংঘর্ষের একদম সামনে থাকতে দেখা যায় অন্তত দুই ঘণ্টা ধরে। এমন সময়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে ইটের আঘাতে আহত হয়ে সড়কে পড়ে যান তিনি।
এরপর তার ওপর নির্মম হামলা চালায় হেলমেটধারী কয়েকজন যুবক। হামলার একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে দুজন। এর মধ্যে সবচেয়ে হিংস্রভাবে কোপাতে দেখা গেছে শনাক্ত হওয়া রাব্বীকে। রাব্বীর আগের হামলাকারীকেও শনাক্ত করা হয়েছে। নাহিদ হত্যার পরদিন হাসপাতালে মারা যান দোকানকর্মী মুরসালিন। মুরসালিনকেও কুপিয়েছে ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী। মুরসালিনের হত্যাকারীকেও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। রাব্বীর নাম জানা গেলেও অন্যদের নাম জানা যায়নি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, সব ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ হচ্ছে, কয়েকজনকে শনাক্তও করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছে। একটি মামলা বিস্ফোরক আইনে এবং অন্যটি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে করা হয়েছে। দুই মামলায় নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীসহ মোট ১২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত ১৮ এপ্রিল রাত ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সংঘর্ষ হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে এ সংঘর্ষ। এরপর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও আবার পরের দিন মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর থেকে ফের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়, যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অর্ধ শতাধিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। এ ছাড়া সংঘর্ষের এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাদের একজন ডেলিভারিম্যান, অন্যজন দোকান কর্মচারী।
