সীতাকুণ্ড ট্র্যাজেডি: বিস্ফোরণে বার্ন ইউনিটের অর্ধেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক

বার্ণ ইউনিটে যারা ভর্তি হয়েছেন, তাদের শারীরিক অবস্থা বেশ নাজুক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে এখনো পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হলেও এই সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

চমেকে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন প্রায় ৬০ জন রোগীর মধ্যে ৩০ জনের অবস্থা আশংকাজনক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে কদমরসুল এলাকায় বিএম ডিপোতে বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে আগুনের পর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত পাঁচ জন মারা গেছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এছাড়া অন্তত ৪ শতাধিক মানুষ দগ্ধ হয়েছেন।

সীতাকুণ্ডে বিস্ফোরণে আহত অন্তত ৬০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছেছ‌বি: সৌরভ দাশ

এদিকে বিস্ফোরণে আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হওয়া ৫০ শতাংশ রোগীর শারীরিক অবস্থা বেশ নাজুক হওয়ায় চিকিৎসক বলছেন তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথাবলেন চমেক বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান রফিক উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ৬০ জন ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ৩০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তা ছাড়া গুরুতর ৩ জনকে জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে।’

হতাহতদের চিকিৎসায় রক্ত দিতে মধ্যরাতেও হাসপাতালে উপচেপড়া ভিড়

এছাড়া স্থান সংকুলান না হওয়ায় বার্ণ ইউনিটের বেশ কয়েকজন রোগীকে অন্যান্য ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে বলেও জানান ওই চিকিৎসক।

ডিপোতে আগুনের ভয়াবহতা এতোই তীব্র যে আশেপাশের এলাকার ভবনের জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫ ইউনিট কাজ করছে। তবে এখনো পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের অন্তঃত ৪ জন কর্মী আহত এবং দগ্ধ হয়েছেন। এছাড়া একজন পুলিশ কনস্টেবলের পা বিচ্ছিন্নসহ অন্তত নয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক নিউটন দাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।তিনি আরও বলেন, বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সব ইউনিটে সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুন নেভাতে আরও কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকেও ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট আনা হয়েছে।