ভালোবাসার স্বীকৃতি পেতে লিঙ্গ পরিবর্তন ,নারী থেকে পুরুষ হলেন শিক্ষিকা!

লিঙ্গ পরিবর্তন এর মাধ্যমে ভালোবাসার মানুষকে নিজের করে পাবার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন  ভারতের এক শিক্ষিকা। ভারতের রাজস্থান রাজ্যের অই নারী শিক্ষিকার ভালোবাসার অভিনব গল্প সামনে এলো এনডিটিভির রাজস্থান টিচার চেঞ্জেস জেন্ডার টু ম্যারি: ”এভরিথিংক’স ফেয়ার ইন লাভ” শীর্ষক প্রতিবেদনে ।প্রতিবেদন টিতে উঠে আসে অনেক বাঁধা বিপত্তি কাঁটিয়ে তাদের এক হবার গল্পটি।

ভারতের রাজস্থানের ভরতপুরের একটি সরকারি স্কুলের শারীরবিদ্যার শিক্ষিকা ছিলেন মীরা। সেই একই স্কুলের ছাত্রী ছিল কল্পনা । শুরু থেকে খুব ভাল বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে মীরা ও কল্পনার মাঝে। বছর দুয়েকের বন্ধুত্বকে শেষ পর্যন্ত ভালবাসায় রুপ দেয় মিরা ও কল্পনা। সেই ভালবাসাকে পরিপূর্ণতায় রুপ দিতে কল্পনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন মিরা। কল্পনাও যেহেতু মিরাকে ভালবাসতেন তাই মিরাকে  বিয়ে করতে তার কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু তাদের বিয়েতে প্রধান বাধা হয়ে দাড়ায় তাদের দুজনের পরিবার । দুজনের পরিবার কেউই মোটেও রাজি ছিল না এ বিয়েতে। সামাজিক রীতি অনুযায়ী রাজি হওয়া সম্ভব ও ছিল না।

কিন্তু তাতে দমে যাননি মিরা ,সিধান্ত নেন কল্পনাকে বিয়ে করার জন্য অস্ত্রোপচার এর মাধ্যমে নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করবেন। যেই ভাবা সেই কাজ ,অবশেষে ২০১৯ সালে মিরা স্থির করেন ওই বছরই লিঙ্গ পরিবর্তনের কাজ শুরু  করবেন ।আর ওই বছরই তার প্রথম অস্ত্রোপচার হয় এবং তারই ধারাবাহিকতায় মিরা থেকে আরভ হওয়ার পথে যাত্রা প্রারম্ভ হয়। আর সেই অধরা ভালবাসাকে পূর্ণতা পায় গত ৪ই নভেম্বর,বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় কল্পনা এবং আরভ । তারা প্রমান করে দেখিয়া দিল চাইলে ভালবাসার মানুষকে পাবার জন্য কত দূর পর্যন্ত যাওয়া যায়।

এ বিষয়ে আরভের সাথে কথা হলে সে জানায় ‘ আমি নিজের ইচ্ছায় লিঙ্গ পরিবর্তন করিয়েছি।  ভালবাসার জন্য এই কাজ আমার কাছে খুবই তুচ্ছ মনে হয়েছে। অন্যদিকে কল্পনা জানায় ‘আমি  প্রথম থেকেই ওকে ভালবাসতাম। যদি ও অস্ত্রোপচার নাও করত তাও আমি আরভকেই বিয়ে করতাম। তার অস্ত্রোপচারের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমি  ওর পাশেই ছিলাম।’