‘একদিন পাখি উড়ে’ খ্যাত কণ্ঠশিল্পী আকবর আর নেই

নিয়তির কাছে হার মেনে অবশেষে মৃত্যুলোকে পাড়ি জমালেন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়া গায়ক আকবর আলী গাজী (ইন্না লিল্লাহি …. রাজিউন)।১৩ নভেম্বর রবিবার বিকেল তিনটায় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শিল্পী।

শিল্পী আকবরের মৃত্যুর বিষয়টি প্রথম নিশ্চিত করেন তার মেয়ে অথৈ। তার বাবা আর বেঁচে নেই এমনটা জানিয়ে, আকবরের ফেইসবুক আইডিতে অথৈ লিখেন, ‘আব্বু আর নেই।’এরপর আকবরের স্ত্রী কানিজ ফাতেমাও বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

‘আমার আর কিছু করার নেই। আমাকে ফাঁকি দিয়ে পাখি উড়াল দিয়েছে। আমি তাকে আর ধরে রাখতে পারিনি’। গণমাধ্যমের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন গায়ক আকবরের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা।

দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানান জটিলতায় ভুগছিলেন আকবর। সর্বশেষ গত বুধবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এতদিন সেখানে জীবন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে আজ হার মেনে নিলেন এই গায়ক।

কণ্ঠশিল্পী আকবর দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। এছাড়াও দুই বছর ধরে তার শরীরে বাসা বেঁধেছে জন্ডিস, রয়েছে কিডনির সমস্যা এমনকি রক্তের প্রদাহসহ অন্যান্য শারীরিক জটিলতাও। অনেকদিন থেকে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

খুলনার পাইকগাছায় জন্ম নেয়া  আকবর আলি গাজি বেড়ে উঠেছেন যশোরে। গায়ক হবার আগে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন আকবর। এরপর হঠাৎ করে সুযোগ পেয়ে হানিফ সংকেতের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে কিশোর কুমারের ‘একদিন পাখি উড়ে’ নতুন করে গেয়েছিলেন আকবর। সেই থেকে আকবর আলী গাজী সবার কাছে পরিচিতি পান আকবর নামে। ঐ একটি গানই তাকে দেশে এবং বিদেশে শ্রোতামহলের কাছে পরিচিত করে তোলে। আলোচনার কেন্দ্রে  পরিণত হন তিনি। এরপর গায়ক আকবরের ‘তোমার হাতপাখার বাতাসে’ গানটি দেশ-বিদেশের দর্শক-শ্রোতার কাছে বেশ প্রশংসা পায় । এর আগে যশোরে ও এর আশেপাশে বিভিন্ন জেলায় স্টেজ শোতে গান গাইতেন আকবর।

‘একদিন পাখি উড়ে যাবে যে আকাশে’ গানটি গেয়ে শ্রোতাদর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন যিনি, সেই তিনিই  উড়ে যাওয়ার কথাকে সত্যি করে নীরবে নিভৃতেই চলে গেলেন। ওপারে ভালো থাকুন গানের পাখি আকবর আলী গাজী।