ক্রমেই দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে আমদের প্রিয় রাজধানী নগরী ঢাকা। জনসংখ্যার চাপ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, নির্মাণ সামগ্রি যত্রতত্র ফেলে রাখা, জনগনের অসচেতনতা, সরকারে উদাসীনতা সব মিলিয়ে তিলোত্তমা ঢাকাকে আজ বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
আজ ১৪ নভেম্বর সোমবার সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১৯৭, যা বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে নির্দেশ করছে বলে মনে করা হয়। একিউআই স্কোর ১০০ থেকে ২০০ পর্যন্ত ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ঐ একই তালিকায় ২২৩ একিউআই স্কোর নিয়ে প্রথম অবস্থানে ভারতের রাজধানী দিল্লি; আর ১৭৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের কোলকাতা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের বায়ুমান যাচাই বিষয়ক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজ্যুয়াল’ প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করে একিউআই বায়ুমান সূচক। একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটুকু নির্মল বা দূষিত সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় এই সূচক এবং তাদের জন্য কোন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে কি না তা জানিয়ে দেয় এটি। কোন শহরের স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে স্বাস্থ্য সতর্কতাসহ তা জরুরি অবস্থা হিসেবে জানিয়ে দেয়। এ অবস্থায় অতি সংবেদনশীল মানুষকে বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে থাকতে বলা হয় আর বাকিদেরও সতর্কতার সাথে কাজ করতে বলা হয়।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি ধরনকে ভিত্তি করে। ঐ পাঁচটি ধরণ হলো…
১।বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২ দশমিক ৫)
২। এনও ২
৩।সিও
৪।এসও ২
৫।ওজোন
বাতাসের গুণমান বর্ষাকালে কিছুটা ভালো থাকলেও শীতকালে প্রচণ্ড অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায়। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় নির্মাণ কাজ, সাথে যোগ হয় রাস্তার ধুলা। এছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে দূষিত কণার ব্যাপক নিঃসরণের কারণে ঢাকা শহরের বাতাসের গুণমান দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে। ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলা, এই তিনটি জিনিষ ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য দায়ী বলে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদফতর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বায়ুদূষণে সবচাইতে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশু ও প্রবীণ মানুষরো।বিশ্বব্যাপী মৃত্যু ও অক্ষমতার জন্য যে কারণগুলোকে দায়ী করা হয় তার একটি এই বায়ুদূষণ। দীর্ঘদিন দূষিত বায়ুতে শ্বাস নেয়ার ফলে একজন ব্যক্তি হৃদরোগ, শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ ও ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে।






Users Today : 22
Users Last 30 days : 657
Total Users : 18977
Total views : 31078
Who's Online : 0