‘শ্রদ্ধা হত্যাকাণ্ড’ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল অভিযুক্ত আফতাব

বিয়ে করতে চাওয়ায় অপরাধে প্রেমিকাকে হত্যা করে ৩৫ টুকরো করার চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ড নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো ভারতকে। প্রেমিকা শ্রদ্ধা মাদানকে হত্যার পর তার মরদেহ খণ্ড খণ্ড করে প্রথমে ফ্রিজে,পরে সেখান থেকে দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দিয়েছিলেন আফতাব আমিন পুনেওয়ালা নামের ওই প্রেমিক।

প্রেমিকাকে হত্যার পর ঠিক কি কি করেছেন,যে কাজগুলো করেছেন তার ধারনা কোথায় থেকে পেয়েছেন এবার সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিলেন এই কথিত প্রেমিক।ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোয় খবরে শোনা যাচ্ছে অভিযুক্ত আফতাব জিজ্ঞাসাবাদে দিল্লি পুলিশকে জানায়, হত্যার পর কী করতে হবে তার ধারণা তিনি বিভিন্ন ওয়েব সিরিজ এর থেকে পেয়েছেন। যার মধ্যে একটি ‘ডেক্সটার’।ইন্টারনেটের সহায়তায় গুগল থেকে জানতে পারেন কীভাবে রক্ত পরিষ্কার করতে হয়।মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠন নিয়েও তিনি গুগল থেকে পড়াশোনা করে জানতে পারেন।

নেটফ্লিক্স, হটস্টার, আমাজন প্রাইমের মতো ওটিটি  প্ল্যাটফর্ম প্রতিনিয়তই নিত্যনতুন সব কন্টেন্ট নিয়ে আসছে দর্শকের জন্য যার একটি হল এই ক্রাইম থ্রিলার। নিছক বিনোদনের দিতেই তৈরি হয় এমন সিরিজগুল। কিন্তু কখনো কখনো অপরাধীরা যে  ভয়ংকরসব অপরাধ করার এবং তা থেকে রক্ষা পাওয়ার ধারণা নিচ্ছেন এই সিরিজগুলো থেকে তার প্রমান পাওয়া গেল এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড থেকে।

এদিকে এমন লোমহর্ষক খুনের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়েছেন ভারতের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। খুনি প্রেমিকের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন সবাই। এদিকে বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর সহ বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই প্রতিবাদ জানান এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের।

স্বরা ভাস্কর তার এক টুইট বার্তায় জনান, ‘এই ঘটনাটি কতটা ভয়ংকর এবং মর্মান্তিক তা ব্যাখ্যার জন্য কোনো শব্দ নেই। আমার মনটা কাঁদছে এই মেয়েটির জন্য। তার প্রিয় এবং বিশ্বস্ত মানুষের কাছে এমন ভয়ংকর বিশ্বাসঘাতকতার মুখোমুখি হয়েছে সে! আশা করি পুলিশ দ্রুত তাদের তদন্ত শেষ করবে এবং এই দানবটি কঠোরতম শাস্তি পাবে। সে কঠোর শাস্তি প্রাপ্য।‘

উল্লেখ্য যে,প্রেমেরটানে ঘর ছেড়ে দিল্লির মেহরৌলির একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন শ্রদ্ধা ও আফাতাব। বিয়ে করতে চাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন আফতাব।তার পর প্রেমিকার লাশকে কেটে ৩৫ টুকরো করেন এবং এ গুলোকে রাখার জন্য নতুন ফ্রিজ কিনেন।পরে সুযোগ বুঝে আশে পাশে বিভিন্ন জায়গাতে টুকরোগুলো ফেলে আসেন তিনি।