জাতি হিসেবে ভীষণ পরিস্কার পরিছন্ন জাপানীরা। জাপান ভ্রমণে গেলে দেখা যায় অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী হবার সাথে সাথে জাপানিরা স্বভাব গত ভাবে যেমন নম্র ও ভদ্র ঠিক তেমনি পরিস্কার পরিছন্নতার ব্যাপারে বেশ সচেতন। সেরকমই এক দৃশ্য দেখা গেল এবারের বিশ্বকাপেও।
গত ২০ নভেম্বর পর্দা উঠে কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ এর।২৩ নভেম্বর বুধবার কাতারের খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল এবারের আসরের অন্যতম ফেভারেট জার্মানি ও এশিয়ার অন্যতম সেরা দল জাপান। সৌদিআরবের আর্জেন্টিনা কে হারানোর অঘটনের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক অঘটনের সাক্ষী হয় বিশ্ব ফুটবল।২-১ বেবধানে জার্মানিকে হারিয়ে দেয় জাপান। ম্যাচের প্রথমার্ধে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে জার্মানি। প্রথম হাফেই গুন্দোগানের পেনাল্টি থেকে গোল করে বিরতিতে যায় জার্মানরা। তবে দ্বিতীয় হাফে মুদ্রার ওপিঠ দেখে জার্মানরা। ৭৫ থেকে ৮৩ মিনিটের মধ্যে জার্মানিকে দুই গোল দিয়ে স্তব্ধ করে দেয় জাপানিরা।শেষ বাঁশী বাজার সাথে সাথে খুশির আনন্দে ভেসে যায় গ্যালারি ভর্তি জাপানের সমর্থকরা।
এমন জয়ের আনন্দের মাঝেও জাপানীরা কিন্তু ভুলেনি তাদের নিত্য কর্তব্যকে।যা দেখে অবাক হয়ছে ফুটবল বিশ্ব ,জয়ের জন্য অভিনন্দনের পাশাপাশি তাদের এই কাজের জন্য ফুটবল প্রেমিদের কাছ থেকে পেয়েছে ভালোবাসা যুক্ত প্রশংসা।খেলা শেষ হতেই যখন সমর্থকরা বাড়ি ফিরে যান, জাপানের সমর্থকরা তখন স্টেডিয়ামে রয়ে গেলেন।দলের জন্য গলা ফাটাতে নয় তারা থাকলেন স্টেডিয়াম পরিষ্কার করবেন বলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভাইরাল হওয়া অনেক ছবিতে দেখা গেছে খেলা দেখতে এসে যারা স্টেডিয়ামে নানা রকম ব্যাগ,খাবার এর উচ্ছিষ্ট ও অন্যান্য ময়লা ফেলে গেছেন জাপানী সমর্থকদের পরিষ্কার করতে দেখা যায় সেগুলো। সেইসঙ্গে ম্যাচ শেষে জাপানি টিমকে ও দেখা যায় ড্রেসিংরুম ছাড়ার আগে, সে জায়গাটিও পরিচ্ছন্ন-পরিপাটি করে গেছেন তারা। এছাড়া বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেও কিছু জাপানিজ সমর্থককে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করতে দেখা গেছে।
শুধু এবারই নয় এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল রাশিয়া বিশ্বকাপেও।খেলা শেষে জাপানি দর্শকরা গ্যালারির আবর্জনা যত্নসহকারে পরিস্কার করে সরিয়ে নিচ্ছেন, ড্রেসিংরুম ছাড়ার আগে ফুটবলারাও পরিচ্ছন্ন করে যাচ্ছেন সব কিছু। ফুটবল শৈলী দিয়ে প্রশংসা পাবার পর আরও একবার রুচির ছাপ রেখেও বাহবা পাচ্ছেন তারা।
২০১৮ বিশ্বকাপের সময় স্টেডিয়ামের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে সকলের নজর কেড়েছিল জাপান। সেই বিশ্বকাপে ফেয়ার প্লের পুরস্কারও জিতেছিল তারা।
