অবশেষে চলে গেলেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার জয়ী অভিনেতা বিক্রম গোখলে।আজ ২৬ নভেম্বর দুপুরে পুনের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ খ্যাত এ যশস্বী অভিনেতা।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।গত বেশ কয়েকদিন ধরে পুনের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।বুধবার দুপুর থেকে কোমায় ছিলেন প্রবীণ এ অভিনেতা।
যদিও বুধবার রাতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। এছাড়া বেশ কিছু সর্বভারতীয় গণমাধ্যমও খবরটি প্রচার করেছিল।কিন্তু পরদিন অভিনেতার পরিবার এর পক্ষে অভিনেতার স্ত্রী ভ্রুশালি গোখলে জানিয়েছেন, বিক্রম গোখলের মৃত্যুর খবর ভুয়া। তিনি বেঁচে রয়েছেন। তবে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।
১৯৪০ সালের ১৪ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন বিক্রম গোখলে। তাঁর বাবা চন্দ্রকান্ত গোখলেও মারাঠি থিয়েটার এবং সিনেমার পরিচিত নাম। বিক্রমের দাদি কমলাবাই গোখলে প্রথম নারী শিশুশিল্পী ছিলেন।সেই ধারাবাহিকতায় তিনিও অভিনয়ে আসেন। হিন্দি, মারাঠি সিনেমা ও থিয়েটারে দাপিয়ে কাজ করেছেন বিক্রম গোখলে।
বিক্রম গোখলে চলচ্চিত্রজগতে পদার্পণ করেন ২৬ বছর বয়সে। তাঁর প্রথম ছবি ‘পরওয়ানা’ মুক্তি পায় ১৯৭১ সালে। সহশিল্পী হিসেবে পেয়ে ছিলেন ভারতীয় অভিনয় জগতের আরেক দিকপাল অমিতাভ বচ্চনকে। মূলত একই ছবিতে কাজ করার সুবাদে তখন থেকেই বিক্রম গোখলে ও অমিতাভ বচ্চন ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু।দীর্ঘ ৪০ বৎসরের অভিনয় জীবনে বিক্রম গোখলে অনেক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেন।সঞ্জয় লিলা বানসালির ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ ছাড়াও তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে আছে ‘অগ্নিপথ’, ‘খুদা গাওয়া’, ‘ক্রোধ’, ‘বলবান’, ‘জজবাত’, ‘লাকি: নো টাইম ফর লাভ’, ‘কুছ তুম কাহো কুছ হাম কাহে’, ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘তুম বিন’, ‘ব্যাং ব্যাং’, ‘ফিরিঙ্গি’, ‘হিচকি’, ‘আইয়ারি’, ‘মিশন মঙ্গল’ ইত্যাদি।
সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি ছোট পর্দায়ও কাজ করেছেন এই প্রয়াত অভিনেতা। ‘অহংকার’, ‘ইন্দ্রধনুষ’, ‘আকবর বীরবল’, ‘জুনুন’, ‘শিব মহাপুরাণ’, ‘উড়ান’, ‘অগ্নিহোত্রা’, ‘ইয়া সুখান্ন ইয়া’, ‘চন্দন কা পালনা রেশম কি ডোরি’, ‘কুছ খোয়া কুছ পায়া’, ‘মেরা নাম করেগি রোশন’, ‘অল্পবিরাম’, ‘সঞ্জীবনী’, ‘বিরুদ্ধ’, ‘জীবনসাথি’, ‘সিংহাসন’ এর মতো ধারাবাহিকে দেখা গেছে তাঁকে।
মারাঠি ছবি ‘অনুমতি’তে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন ভারতের সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার।
অভিনেতার পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে যে তাঁর দেহ বালগন্ধর্ব অডিটরিয়ামে শেষদর্শনের জন্য রাখা হবে। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় পুনের বৈকুণ্ঠ শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে এই মহান অভিনেতার।
