ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ ৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন।সকাল সাড়ে ১০ টায় ছাত্রলীগের এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা যায়, আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠন গোছাতে পারবে এমন নেতৃত্ব নিইয়ে আসা হবে এবারের সম্মেলন থেকে।
দীর্ঘ চার বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম এ জাতীয় সম্মেলন।২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন। আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ওই বছরের জুলাইয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি পদে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক পদে গোলাম রাব্বানীকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।কিন্তু নানা অপকর্ম ও বিতর্কের কারনে তারা পদ হারালে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সভাপতি পদে আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক পদে লেখক ভট্টাচার্য আসেন। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ‘ভারমুক্ত’ হন তারা।
আওয়ামীলীগের এই ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনে সম্মেলনে আজ ঘোষিত হবে এর শীর্ষ পদের নেতৃত্ব।আগামি নির্বাচনকে সামনে রেখে বাছাই করা হবে প্রার্থীদের।ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদে নেতা হওয়ার দৌড়ে প্রার্থী রয়েছেন তিন শতাধিক।।লবিং-তদবিরে ব্যস্ত পদপ্রত্যাশীরা।তবে নেতা নির্বাচনে চূড়ান্ত সিধান্ত নিবেন সংগঠনের অভিভাবক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে প্রতিটি মুক্তি আন্দোলনে ছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অংশগ্রহণ। তবে গত দুই দশক ধরে নানা অপকর্ম ও বিতর্কে জড়িয়েছে সংগঠনটি।
বিভিন্ন সময়ে ছাত্রলীগে বিভিন্ন পদে শিবির, স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সদস্যদের অনুপ্রবেশ করে যা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয় আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। ফলে এবারের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ যাদের দেওয়া হবে, তাঁদের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় গুরুত্ব পাবে এমন তথ্য পাওয়া গেছে আওয়ামীলীগের একাধিক সুত্র থেকে। সুত্র হতে আরও জানা যায় এবার ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচনে বয়সসীমা কত হবে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে নীতি নির্ধারক মহলে। ছাত্রলীগের গত চার সম্মেলনে নেতাদের বয়সসীমা ২৯ বছর পর্যন্ত ছিল। তবে কভিড মহামারীর কারনে এবার বয়সসীমা কিছুটা শিথিল হতে পারে।
বরাবরই ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক বেশিরভাগই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত হয়য়ে থাকেন। এবারের সম্মেলনে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেতৃত্ব বাছাইয়ের তাগিদ ছাত্রনেতাদের। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম জনান,” সুনির্দিষ্ট কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নয়, মেধা, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাই মুখ্য বিষয় হবে।“
ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি। জাতীয় সম্মেলনের পর একসঙ্গে এই চার কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।






Users Today : 18
Users Last 30 days : 1411
Total Users : 23717
Total views : 36286
Who's Online : 0