বাংলা নারী জাগরণের মহান অগ্রদুত মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া।বাংলা নারীদের পুনঃ জাগরণ,সমাজে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বাংলা সাহিত্যে তার অবিস্মরণীয় অবদান স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার প্রতিবছর ডিসেম্বরের ৯ তারিখে বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা নারীদের পুরস্কার স্বরূপ পদক প্রদানের মাধ্যমে সম্মান জানিয়ে থাকে।
তারই ধারাবাহিকতায় এবারো সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের পাঁচ বিশিষ্ট নারী পাচ্ছেন ‘বেগম রোকেয়া পদক ২০২২’।
৯ ডিসেম্বর শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বেগম রোকেয়া পদক-২০২২-এর জন্য মনোনীত নারীদের এই সম্মাননা পদক বিতরণ করবেন।
আজ ৭ ডিসেম্বর বুধবার বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এবারের বেগম রোকেয়া পদকের জন্য মনোনীত পাঁচ নারী হলেন:
১।নারীশিক্ষায় অবদানের জন্য ফরিদপুরের রহিমা খাতুন,
২।নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার জন্য চট্টগ্রামের প্রফেসর কামরুন নাহার বেগম (অ্যাডভোকেট),
৩।নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সাতক্ষীরার ফরিদা ইয়াসমিন,
৪।সাহিত্য ও সংস্কৃতি এবং নারী জাগরণে অবদানের জন্য নড়াইলের ড. আফরোজা পারভীন এবং
৫।পল্লী উন্নয়নে অবদানের জন্য ঝিনাইদহের নাছিমা বেগম।
আগামী শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) সারাদেশে পালন করা হবে বেগম রোকেয়া দিবস। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল বেগম রকেয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা রোকেয়া পদকের জন্য মনোনীত পাঁচ নারীকে সম্মাননা দেওয়া।
উল্লেখ্য পদকপ্রাপ্তরা সবাই পুরস্কার হিসাবে ১৮ ক্যারেট মানের ২৫ গ্রাম সোনা দ্বারা নির্মিত একটি পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, নগদ চার লাখ টাকা এবং একটি সম্মাননাপত্র পাবেন।
উল্লেখ্য বাংলাদেশ নারী কল্যাণ সংস্থা ১৯৯১ সাল থেকে এই পদক প্রদানের কার্য্ক্রম শুরু করে।পরে সরকারি ভাবে ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয় এই পদক প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন একাধারে একজন সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারেজন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম জহীরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের এবং মাতা্র নাম রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী।
বেগম রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: মতিচূর (প্রবন্ধ, ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),সুলতানাস ড্রিম(১৯০৮), পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪), অবরোধবাসিনী (গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি।
নারী জাগরণের এই অগ্রদূত এবং আলোর দিশারী বেগম রোকেয়া ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরন করেন।
