সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশ নির্ধারিত দিনেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আগামীকাল ১০ডিসেম্বর শনিবার ঢাকার গোলাপবাগ মাঠে বেলা ১১টায় শুরু হবে বিএনপিঢ় এই মহা সমাবেশ। আজ শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) দলটির চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে দুপুর ৩ টায় অনুষ্ঠিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সমাবেশ থেকে ১০ দফা দাবির ঘোষণাও আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঠিক কি কি দাবি নিয়ে ১০ দফা ঘোষণা করা হবে সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মোশাররফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ এমন দশটি দাবিসহ ১০ দফা ঘোষণা করা হবে।
গতবেশ কয়েকদিন ধরেই ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশের স্থান নির্ধারণ নিয়ে সরকার ও বিএনপির মধ্যে এক ধরনের দ্বন্দ্ব চলছিল।বিএনপি পল্টনে তাদের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ মহাসমাবেশ করতে চায়। অন্যদিকে সরকার বিএনপিকে পল্টনে সমাবেশ করতে দিতে রাজি নয়।ডিএমপির পক্ষ থেকে ঢাকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে এ সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে।তবে সেখানে সমাবেশ করতে নারাজ বিএনপি।
মহাসমাবেশের স্থান নির্ধারণের মাঝেই গত বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির সঙ্গে পুলিশের দ্বিমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহতের পাশাপাশি বিএনপির বহু নেতাকর্মী আহত হয়। পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় রুহুল কবির রিজভীসহ দলটির প্রথম সারির অনেক নেতাকেই গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন।এর একদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এরইমধ্যে শুক্রবার রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশের অনুমতি পায় বিএনপি। শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বতে বিএনপির প্রতিনিধিদল দেখা করতে গেলে তাদের সমাবেশের অনুমতির কথা জানায় পুলিশ।
আরও পড়ুনঃশক্তিশালী হয়ে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মান্দাস
বিএনপির সমাবেশের অনুমতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির প্রস্তাবিত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের গোলাপবাগ মাঠে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মাঠ সমাবেশ করার জন্য উপযুক্ত কিনা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোন ইস্যু আছে কিনা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আলোচনা করে গোলাপবাগে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয় বলে জানানো হয় ডিএমপির পক্ষ থেকে।
