শিগ্রই দেশের বাজারে কমছে না জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও দেশের বাজারে শিগ্রই কমছেনা জ্বালানি তেলের দাম। লোকসান হচ্ছে এই যুক্তিতে দেশের বাজারে তেলের দাম অপরিবর্তনীয় রেখেছে সরকার।

জ্বালানি পণ্য সংক্রান্ত ওয়েবসাইটগুলোর তথ্য হতে যানা গিয়েছে বিশ্ববাজারে গত এক সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ১০ শতাংশের বেশি।গতকাল ১১ ডিসেম্বর রবিবার বাংলাদেশের আমদানি করা মারবান ক্রুডের দাম নেমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭৫ ডলারে। এটি ছিল চলতি বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন দাম।সরকার যখন দেশে গত ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছিল, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে মারবান ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের আশেপাশে।আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত হয় পরিশোধিত ডিজেল। যার দাম গত আগস্টে ছিল ১৫৫ ডলার। এটি চলতি সপ্তাহে কমে  দাঁড়িয়েছে ১০৫ ডলারে নেমেছে।

এইদিকে বিশ্ববাজারে দাম স্থিতিশীল না হওয়ায় দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখনি কমানো হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী।

গতকাল ১১ ডিসেম্বর রবিবার মিরপুর সেনানিবাসে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি(এমআইএসটি) আয়োজিত সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

বৈশ্বিকবাজারে তেলের দামে স্থিতিশীলতা ফিরলেই দেশেও তেলের দাম কমানো হবে উল্লেখ করে তৌফিক-ই-এলাহী বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা-বাড়ার অস্থিতিশীল একটা পর্যায়ে রয়েছ।আজ তেলের দাম ৭০ থেকে ৮০ ডলারে নেমেছে দেখা যাবে কালই এক লাফে তা ১২০ ডলারে উঠে গেছে। সুতরাং জ্বালানির দাম আমাদের একটু বুঝেশুনে নির্ধারণ করতে হবে।“

তিনি বলেন, ‘বিশ্বরাজনীতির বড় হাতিয়ার এখন জ্বালানি। এর ভবিষ্যৎ কী হবে তা আমাদের জানা নেই। তাই জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজতে হবে। উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের জ্বালানির ব্যবহার কম বিধায় চিন্তা খানিকটা কম। তবে ডলারসংকটে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। ’

এ সময় তিনি দেশের মানুষকে জ্বালানি ব্যবহারে আরো সাশ্রয়ী হওয়ার আহবান জানান। এ ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহারে অপচয় রোধ করার ওপরও জোর দেন উপদেষ্টা। এদিকে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বিতরণ কম্পানিগুলোর আবেদনের বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।

তবে জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। তাদের মতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যেহেতু কমছে তাই দেশেও দাম কমানো উচিত।সরকারকে জনগণের কথা ভাবতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য তারা খোঁজে শুধুই মুনাফা।