প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যে বই বিতরণের মধ্য দিয়ে আজ উদযাপিত হবে জাতীয় “বই উৎসব”।
আজ ১ জানুয়ারি রবিবার সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে একযোগে বই উৎসব উদযাপন করা হবে।
অন্যান্যবছরের ন্যায় এ বছরও বই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর অন্যদিকে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার কাপাসিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে আজ সকাল ১০টায় মাধ্যমিকের বই উৎসবের উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
ঠিক একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রাথমিকের বই উৎসবের উদ্বোধন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন।এ ছাড়া দেশের অন্যান্য প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মন্ত্রী-এমপিসহ বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে এই বই উৎসব পালন করা হবে। শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে নতুন বছরের নতুন পাঠ্য বই।
উল্লেখ্য গত দুই বছর করোনার কারণে বই উৎসবে অনেকটাই ভাটা পড়ে যায়। তবে যেহেতু এবার তেমন কোন সমস্যা নেই তাই উৎসবকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।তাই সংশ্লিষ্ট সকলেই আশা করছেন এ বছর উৎসবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহনের হার অনেক বেশি হবে।
তবে নানা সংকটের কারণে এ বছর বই ছাপায় ধীরগতি দেখা দেয়। এনসিটিবি ও মুদ্রণ শিল্প সমিতি সূত্রে বই ছাপার এই ধীরগতি সম্পর্কে জানা যায়, দেশে কাগজ তৈরির ভার্জিন পাল্প (কাগজ তৈরির মণ্ড) না থাকা, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে এ বছর নির্ধারিত সময়ে বই ছাপার কাজ শুরু করা যায়নি। তাছাড়া টেন্ডারপ্রক্রিয়ায় ধীরগতিও অন্যতম বড় কারণ সঠিক সময়ে বই না ছাপাতে পারার।তবে সব সমস্যা সমাধানের পর গত ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে বই ছাপার কাজ শুরু হয়।
এদিকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বলছে, এ পর্যন্ত সারা দেশে মাধ্যমিকের ৮১ শতাংশ এবং প্রাথমিকের ৭০ শতাংশ বই সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি বই আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে সরবরাহ করা হবে।
তবে মুদ্রন শিল্প মালিক সমিতি জানিয়েছে এনসিটিবি সারা দেশে যে পরিমাণ বই বিতরণ করেছে, তাদের হিসাবের থেকে জেলা পর্যায়ে পাঠানো বইয়ের সংখ্যা তুলনামূলক কম। গত ২৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্যেও এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যেসব স্থানে বই পাওয়া যায়নি, খোঁজ পাওয়ামাত্র সেখানে বই সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ’
