চাঁদপুরে পারিবারিক কলহের জেরে নিজ সন্তানকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতে বাধা দিয়েছেন জন্মদাতা পিতা। একই ঘটনায় স্বামীর লাশ দাফনের আগেই স্ত্রী ও সন্তানের ন্যায্য পাওনা চান মৃতের স্ত্রী।এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
গতকাল ৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার মাতৈন গ্রামে সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে।মৃত ব্যক্তির নাম কামাল পাটওয়ারী।তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫নং সদর ইউনিয়নের পাটওয়ারী বাড়ির আবদুল কাদের পাটওয়ারীর ছেলে।তার স্ত্রীর নাম স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বিউটি।
ঢাকায় চিকিৎসারত অবস্থায় কামাল পাটোয়ারি মৃত্যুবরণ করলে তাকে দাফনের জন্য বাড়িতে নিয়ে এলে মৃতের বাবা আবদুল কাদের পাটওয়ারী তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতে বাধা দেন।এদিকে স্বামীর লাশ দাফনের আগে সম্পত্তির ন্যায্য পাওনা চান স্ত্রী স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বিউটি।
আরও পড়ুনঃ রাজবাড়িতে ৬ মাসের শিশুর মরদেহ উদ্ধার, মা-বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ
সর্বশেষ হাজীগঞ্জ থানার পুলিশের একটি টিম ও স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টি সুরাহা করে মৃতের লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জোবাইর সৈয়দ।
মৃত কামাল পাটওয়ারীর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বিউটি সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, প্রায় ২৩ বছর আগে তার সঙ্গে পারিবারিকভাবে ৫নং সদর ইউনিয়নের পাটওয়ারী বাড়ির আবদুল কাদের পাটওয়ারীর ছেলে কামাল পাটওয়ারীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়।কিন্তু তার গায়ের রং কালো হওয়ায় তার শ্বশুর-শাশুড়ি কামালের স্ত্রী হিসেবে তাকে মেনে নেয়নি।তারা বিভিন্ন সময় তার উপর নির্যাতন করতেন, বিশেষ করে আমার শাশুড়ি ও ননদদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলেন তিনি।
বিউটি আরও বলেন, ২০০০ সালের দিকে আমার বাবার পরিবার টাকা খরচ করে কামালকে বিদেশ পাঠায়। কামাল বিদেশ যাওয়ার পর তার উপার্জনকৃত সব টাকা বাবার নামে পাঠাতেন কিন্তু তারপরে ও সে তার বাবা-মা ও বোনদের মন জয় করতে পারেননি।এক পর্যায়ে কামাল অসুস্থ হয়ে পড়লে বিদেশ থেকে দেশে চলে আসেন। সেই সময় কামালকে তার পরিবারের কেউ কোনো চিকিৎসা করাতে এগিয়ে আসেননি। এক পর্যায়ে আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপির সহযোগিতায় ঢাকায় তাকে চিকিৎসা করাই।সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় কামাল মৃত্যুবরণ করে কামাল।এরপর তার লাশ দাফন করার জন্য বাড়িতে আনি কিন্তু আমার শ্বশুর কামাল তার সন্তান নয় বলে পারিবারিক কবর স্থানে দাফনে বাধা দেন। এখন আমি ও আমার সন্তানের ন্যায্য দাবি শ্বশুর থেকে বুঝে না নেওয়া পর্যন্ত লাশ দাফন করতে দেব না।
এদিকে পাটওয়ারী বাড়িতে কয়েক ঘণ্টা অবস্থান করেও মৃত কামালের বাবা আবদুল কাদেরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি তার বিল্ডিংয়ের দরজা জানালা বন্ধ করে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে ঘরের ভেতরে অবস্থান নেন।
পাটওয়ারী বাড়ির নুরুল আলম পাটওয়ারীসহ বাড়ির অন্যরা জানান, আবদুল কাদের খুবই ধূর্ত প্রকৃতির লোক।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জোবাইর সৈয়দ সংবাদমাধ্যমকে জানান, “স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ প্রধানীয়া সুমন ও এসআই নাজিমউদ্দিন ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন এবং ঘটনার সুরাহা করার ব্যবস্থা বের করেন। কামালের স্ত্রী ও সন্তানের দাবির প্রেক্ষিতে তাদেরকে থাকার জন্য কামালের ক্রয়কৃত সোয়া ৯ শতাংশ জমি স্ত্রী বা তার ছেলেদের নামে দেওয়া হবে এই মর্মে রাতেই একটি স্ট্যাম্প করা হয়। মৃত কামালের বাবা আবদুল কাদের কামালের স্ত্রী ও সন্তানদের নামে এ জমি দিতে রাজি হয়েছেন।“






Users Today : 1
Users Last 30 days : 652
Total Users : 17587
Total views : 29465
Who's Online : 0