ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দম্পতিকে মেরে রক্তাক্ত করে টাকা ছিনতাই এর অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ছাত্রলীগের অনুসারী দুই শিক্ষার্থীর নামে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল ৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার ঢাকা বিশবিদালয়ের শহিদ মিনার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল রাত ১০টার দিকে ভুক্তভোগী দম্পতির মামা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের মুখ্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোতালেব বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১৩।
মামলায় অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ নেতা হলেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম তাজওয়ার জয় এবং তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের মো. সাজিদ আহম্মেদ। দুজনই মাস্টারদা সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। এর মধ্যে ফাহিম তাজওয়ার জয় ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের অনুসারী আর মো. সাজিদ হোসেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
ঘটনার বিস্তারিত জানাতে গিয়ে মো. আব্দুল মোতালেব সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমার বাসা শহীদ মিনারের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায়। ঘটনার দিন আমার ভাগ্নী ও তার স্বামী চকবাজার থেকে আমার বাসায় আসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে শহীদ মিনার এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্ত দুইজনসহ আরও ১০ থেকে ১২ জনের একটা গ্রুপ তাদের ঘিরে ধরে এবং ইচ্ছামতো মারধর করে সঙ্গে থাকা ২২ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এরপর ব্যাংকের এটিএম কার্ড নিয়ে তার পাসওয়ার্ড চাইলে তা না দেয়াতে পুনরায় মারধর করে।
আরও পরুনঃ রাজধানীতে বাস-ট্রাকের মাঝে চাপা পড়ে যুবক নিহত
এর ফাঁকে আমার ভাগ্নী আমাকে ফোন করে সব জানায়। তখন আমার ছেলে মো. মেহেরাব এবং আমি দৌঁড়ে ঘটনাস্থলে যাই। আমি গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি কিন্তু তারা কোন কথাই শুনতে চায় না। অনবরত গালাগালি করতে করতে তারা আমার গায়েও হাত তোলে। ঘটনার একপর্যায়ে ফাহিম তাজওয়ার জয় হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আমার ছেলে ও ভাগ্নী জামাইকে মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং আমার ভাগ্নীকে হেনস্থা করে। পরে প্রক্টরিয়াল টিম আসলে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়।“
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী সাথে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবহিত হয়েছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে দুই ছাত্রলীগ নেতার এমন ঘটনার বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘এ ধরণের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলি। আমরা পুলিশকে বলেছি তাদের যেন গ্রেপ্তার করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর মোহাম্মদ সমকালকে বলেন, ‘মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
