রাজধানী ঢাকার ফকিরাপুলের বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে আত্মহত্যাকারী নিরাপত্তাকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ ৩০ মার্চ বৃহস্পতিবার ভোরে মতিঝিল থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত নিরাপত্তাকর্মীর নাম গোলাম সরোয়ার (৬৪)। তার বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার ভূয়াখালী গ্রামে। তিনি গত ১৭ বছর ধরে ফকিরাপুলের ডিআইটি এক্সটেনশন রোডের ১১৬/১১৭ নম্বর ভবনের নিরাপত্তকর্মী হিসেবে চাকরি করতেন এবং থাকতেন ভবনটির আন্ডারগ্রাউন্ডের একটি রুমে।বাক্তিগত জীবনে দুই সন্তানের জনক ছিলেন গোলাম সরোয়ার।
আরও পড়ুনঃ যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণকালে সেনাবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ,নিহত ৯
ঘটনার বিস্তারিত জানাতে ভবনটির অপর নিরাপত্তাকর্মী মো. আকাশ জানান,গত বেশ কিছুদিন ধরে মনমরা ছিলেন সরোয়ার। মন খারাপ এর থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলে বলতো তার কোনো সমস্যা নেই এমনি মন খারাপ থাকে।
এর মধ্যেই গতকাল বুধবার রাতের ডিউটি ছিল তার এবং শেষরাতে তার সেহরি রান্না করার কথাও ছিল। কিন্তু রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেহরি খেতে উঠলে দেখেন রান্নাঘরে ফ্যানের হুকের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন সরোয়ার। তখন তিনি ভবনের অন্যান্য লোকজনকে ডেকে আনেন তিনি। পরে মতিঝিল থানায় জানালে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ নিচে নামায়।তবে সে হঠাৎ করে এমন ঘটনা কেন ঘটালেন, তা তিনি জানেন না।
এইদিকে সরোয়ারের ছোট ভাই মাহফুজুর রহমান হাসান অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরোয়ার ভবনটিতে চাকরি করে আসছিলেন। সেই সুবাদে ফ্ল্যাট মালিকদের পছন্দের লোক ছিলেন তিনি। তারা তাকে বকশিশ দিতেন। এসব সহ্য করতে পারেননি ভবনটির ম্যানেজার। সেজন্য ম্যানেজার ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে তার লোক দিয়ে সরোয়ারকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে।
মৃতদেহ উদ্ধার করা প্রসঙ্গে মতিঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা বলে জানা গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আর পরিবার যদি কোনো ধরনের অভিযোগ করে, তাহলে তা তদন্ত করে দেখা হবে।“
