শরীয়তপুরে আগুনে পুড়ে দুই শিশু সহোদর ভাই-বোনের মৃত্যু

শরীয়তপুরে টিনসেড বাড়িতে ঘটা অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশু সহোদর ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় আরেক বোন চিকিৎসাধীন রয়েছে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।

গতকাল ৩ এপ্রিল সোমবার রাত পৌনে ৯টায় শরীয়তপুর জেলার সখিপুর উপজেলার আশরাফ বেপারিকান্দি গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আগুন লাগার ঘটনায় নিহত দুই শিশু সহোদর হলেন ৮ বছর বয়সী আরাফাত এবং ১২ বছর বয়সী সামিরা।গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধিন রয়েছে ১৩ বছর বয়সী আরেক বোন মিম।

শিশুদের পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশিদের কাছ থেকে জানা যায় যে, সখিপুর উপজেলার আশরাফ বেপারিকান্দি গ্রামটিতে দুটি টিনসেড ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন শিশুদের বাবা অটোরিকশা চালক মুনসুর ঢালী।অন্যান্য দিনের মত গতকালও রাতে খাবার খেয়ে তিন সন্তান আরাফাত, সামিয়া ও মিম একটি ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। পাশের ঘরে ঘুমতে যান মনসুর ঢালী ও শিশুদের মা রেহেনা আক্তার।হটাত রাত পৌনে ৯টার দিকে আগুনের তীব্র আলোতে ঘুম ভাগে তাদের। সঙ্গে সঙ্গে উঠে দেখেন তাদের ৩ সন্তান যে ঘরে ঘুমিয়ে আছে সেই ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। পরে তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে তাদের সহযোগিতায় আগুন নিভিয়ে ঘরের ভেতর থেকে ৩ সন্তানকে উদ্ধার করেন।

আরও পড়ুনঃ  রাজধানীর বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিমিষেই পুড়ে ছাই হাজারো ব্যবসায়ীর জীবিকা

স্বজনরা আরও জানান, এরপর দগ্ধ অবস্থায় আজ ৪ এপ্রিল মঙ্গলবার ভোরে শরীয়তপুর থেকে তাদের ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে আনার পর আরাফাত ও সামিয়াকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. এসএম আইউব হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “ভর্তি মিমের শরীরের ১৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার শ্বাসনালীও পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।“