হবিগঞ্জে পরকীয়ার অভিযোগ এনে গ্রাম্য সালিশে অবৈধ ফতোয়া স্বীকার এক গৃহবধূকে বেত্রাঘাতে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।পুলিশ অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
গত ০৩ এপ্রিল সোমবার রাতে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বড়জুম গ্রামে ফতোয়ার মাধ্যমে এই গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
গতকাল ৭ এপ্রিল শুক্রবার সকালে নির্যাতনের শিকার ওই নারী ১৭ জনের নাম উল্লেখ্য করে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় একটি মামলা করেন। এরপরই রাতে অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকে গ্রেফতার করে এ ঘটনায় গ্রেফতাররা হলেন চুনারুঘাট উপজেলার আলীনগর গ্রামের হাফেজ মো. নুরুল ইসলাম (৩৫), বড়জুম গ্রামের বায়েজিদ হোসেন (৭০), আতিক উল্লা (৫০) ও মো. তৈয়ব আলী (৬৮)।
আরও পড়ুন: ভোলায় তুচ্ছ ঘটনায় বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন
মামলার এজাহারের সুত্র ধরে পুলিশ সুত্রে জানা যায়, নির্যাতনের স্বীকার হওয়া ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী বিদেশে থাকেন। তাই বিভিন্ন প্রয়োজনে ওই নারীর বাসায় আসা-যাওয়া করতেন পার্শ্ববর্তী ছনখলা গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবুল কালাম। এরই মধ্যে বিভিন্ন সুযোগে আবুল কালাম ওই গৃহবধূর কিছু গোপন ভিডিও মোবাইলে ধারণ করেন এবং এগুলো দেখিয়ে তিনি ওই নারীকে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। পাশাপাশি সে গ্রামে প্রচার করতে থাকে যে তার ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে প্রেম ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামের একটি কুচক্রীমহল ওই নারীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এনে ৩ এপ্রিল সোমবার রাতে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ওই নারীকে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি হিসেবে ৮২টি বেত্রাঘাত ও ৮০টি পাথর নিক্ষেপের রায় দেয়া হয়।পরে রাত সাড়ে ৯টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বেত্রাঘাত ও নির্যাতন করা হয়।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হক জানান,”অভিযোগকারী ওই নারীর শরীরে বেত্রাঘাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে কি না এবং কয়টি বেত্রাঘাত করা হয় তা জানা যায়নি। এ ঘটনায় গ্রেফতার চারজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।“






Users Today : 16
Users Last 30 days : 650
Total Users : 17585
Total views : 29463
Who's Online : 0