জামায়াতের আমির জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত: পুলিশ

দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন জামাতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান।তার ছেলে ডা. রাফাত সিলেটের বাসায় অন্য সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নতুন জঙ্গি সংগঠনের দাওয়াতি কার্যক্রম চালাতেন এবং ডাঃ রহমান তাতে সাহায্য করতেন বলে জানিয়েছেন সিটিটিসির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

আজ মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমনকে গ্রেপ্তারের পর বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। সেখানে মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

সিটিটিসি প্রধান বলেছেন, ‘ছেলের নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার কার্যক্রমের পুরো বিষয়ে জামায়াত আমির সম্পূর্ণরূপে অবগত ছিলেন।এছাড়াও ক্ষেত্রবিশেষে বিভিন্ন কাজে তিনি অর্থ সহযোগিতাও করতেন। আমরা তার বিরুদ্ধে জঙ্গিদের অর্থ সহযোগিতা করার তথ্য পেয়েছি যা এখন যাচাই-বাছাই চলছে।“

তিনি আরো বলেছেন বলেন, ”গ্রেফতার জামায়াতের আমিরের ছেলে ডা. রাফাত ১১ জনকে নিয়ে ২০২১ সালের জুনে পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টে (কেএনএফ) প্রশিক্ষণের জন্য হিজরত করেছিল। সেই হিজরতের সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছিলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।“

এর আগে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ১২ ডিসেম্বর সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরার তার নিজ বাসা থেকে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

আরও পড়ুনঃসীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে ফের আগুন

গ্রেফতারের পর আজ মঙ্গলবার ১৩ ডিসেম্বর তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। যাত্রাবাড়ী থানার সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরী তার ৭দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যাত্রাবাড়ী থানার ঐ মামলায় গত ৯ নভেম্বর ডাঃ শফিকুর রহমানের ছেলে রাফাত সাদিক সাইফুল্লাহ ও আরিফ ফাহিম সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। ১০ নভেম্বর আদালত তাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ১৪ নভেম্বর দুই দিন ও গত ১৭ নভেম্বর আদালত তৃতীয় দফায় তাদের এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গত ১৯ নভেম্বর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

উল্লেখ্য তিন বছর আগে ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশের আমির হিসেবে শপথ নেন।এরপর ২০২৩-২০২৫ কার্যকালের জন্য ডা. শফিকুর রহমান আবারও জামায়াতের আমির নির্বাচিত হন।