কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল রেকর্ড ২০ বস্তা টাকা!

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দান সিন্দুকে এবার পাওয়া গেল রেকর্ড ২০ বস্তা টাকা!

আজ ৭ জানুয়ারি শনিবার সকাল ৯টার দিকে ৩ মাস ৬ দিন পর আটটি দান সিন্দুক খোলা হয়েছে।এখন চলছে গণনার কাজ।দানবাক্সে টাকার পাশাপাশি সোনা-রুপার গহনাসহ বিপুল বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম ফরহাদ চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দান বাক্স থেকে পাওয়া টাকার গণনা কাজে এ সময় সিনিয়র সহকারী কমিশনার অহনা জিন্নাত, শেখ জাবের আহমেদ, সুলতানা রাজিয়া, সহকারী কমিশনার নাবিলা ফেরদৌস, মো. মাহমুদুল হাসান, রওশন কবীর, মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান ও রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রফিকুল ইসলামসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন।

মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে,আজ ৭ জানুয়ারি শনিবার সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের আটটি দান দানবাক্স খোলা হয়। দান দানবাক্সগুলো খুলে রেকর্ড ২০টি বস্তা টাকা পাওয়া যায়।এরপর টাকাগুলো গণনার জন্য নিয়ে আসা হয়। এখন চলছে টাকা গণনার কাজ।

এর আগে সর্বশেষ ২০২২ সালের ১ অক্টোবর ৩ মাস ১ দিন পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল। তখন রেকর্ড ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। এবার ৩ মাস ৬ দিন পর আজ আবার ৮টি দানবাক্স খোলা হলো।

মসজিদের খতিব ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এই মসজিদে মানত করলে মনের আশা পূর্ণ হয়। এমন ধারণা থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এ মসজিদে দান করে থাকেন।

আরও পড়ুন:যুক্তরাষ্ট্রে ছয় বছর বয়সী শিক্ষার্থীর গুলিতে শিক্ষক আহত

জনশ্রুতি অনুযায়ী, একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদের মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা উঁচু টিলাকৃতির স্থানটিতে বাস ছিল এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের। মুসলিম-হিন্দু নির্বিশেষে সব ধর্মের লোকজনের যাতায়াত ছিল ওই সাধকের আস্তানায়। ওই পাগল সাধকের দেহাবসানের পর তার আধ্যাত্মিক স্থানটি কামেল পাগল পীরের মসজিদ হিসেবে ব্যবহার শুরু করে ওই স্থানের এলাকাবাসী।

কিন্তু ওই সাধকের দেহাবসানের পর থেকে আশ্চর্যজনকভাবে ওই এলাকায় দেশের দূর-দূরান্তের লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। মানত কিংবা দান খয়রাত করলে মনোবাসনা পূরণ হয় এমন বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন বয়সের হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের নারী-পুরুষ মানত নিয়ে আসেন এই মসজিদে। নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কারের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি এমনকি বৈদিক মুদ্রাও দান হিসেবে দেয়া হয়। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানত নিয়ে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের ঢল নামে এ মসজিদে। আগতদের মধ্যে অধিকাংশ মুসলমানই এ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে থাকেন। ধারনা করা হয় এ মসজিদের ইতিহাস প্রায় আড়াইশ বছরেরও অধিক সময়ের পুরনো বলে জানা যায়।

বর্তমানে কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ জমির ওপর গড়ে উঠে মসজিদটি।তবে বর্তমানে মসজিদ কমপ্লেক্সটি ৩ একর ৮৮ শতাংশ জায়গার উপর অবস্থিত। এ মসজিদের পরিধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এর খ্যাতি ও ঐতিহাসিক মূল্য।