উত্তরপ্রদেশের আলোচিত আরিফের বন্ধু সেই সারসটি মারা গেছে

উত্তরপ্রদেশের আলোচিত আরিফের বন্ধু সেই সারসটিকে গত পরশু চিড়িয়াখানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে।

উল্লেখ্য উত্তরপ্রদেশে আহত সারসকে উদ্ধার করে সুস্থ করে তুলেছিলেন আমেথির যুবক আরিফ মহম্মদ।বছর খানেক আগে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে মাঠ থেকে একটি সারসকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছিলেন আরিফ। সারসটির পা ভেঙে গিয়েছিল। বাড়িতে নিয়ে এসে সারসের সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলেন তিনি। এরপর আর অন্য কোথাও যায়নি সারসটি। আমেথির ওই যুবক যেখানেই যেত সেখানেই যেত সারসটি। সারস পাখি যে এভাবে মানুষের বন্ধু হতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস হবে না।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় তাদের বন্ধুত্তের অনেক ভিডিও।

আরও পড়ুনঃ ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত,আহত দুই

তবে ভারতের বন দফতর তাদের এক ভিডিও দেখার পরপরই এলাকায় হানা দেয়। তারা পাখিটিকে নিয়ে কানপুর চিড়িয়াখানায় চলে আসে আর আরিফকে গ্রেপ্তারও করা হয় বন্যপ্রাণী বাসস্থানে রাখার অপরাধে!

উদ্ধারের পর চিড়িয়াখানায় রাখা এই সারসটি কিন্তু বন্ধুকে ছেড়ে একেবারে মন মরা হয়ে পড়ে । এমনকী কিচ্ছু খেতে চাইত না। চিড়িয়াখানায় আনার প্রায় ৪০ ঘণ্টা পরে সেটি শুধু মাত্র কিছু আলু সেদ্ধ আর ছোট মাছ মুখে খেয়েছে। আসলে আরিফই ছিল তার বন্ধু। কিন্তু সেই বন্ধু কোথায় গেল?

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে পাখিটি ধীরে ধীরে গভীর অবসাদের মতো অবস্থায় চলে যাচ্ছে। এরপরই খাঁচার সামনে আরিফের একটি ছবি এনে রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল যাতে যদি কিছুটা খুশি থাকে পাখিটা।

চিড়িয়াখানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রায় ৪০ ঘণ্টা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়েছিল পাখিটি। ২ কিলো জ্যান্ত মাছ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সে কিছুই খাচ্ছিল না। খাঁচার মধ্যে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। তবে সোমবার সকালে প্রথমবার সেটি মাছ মুখে তোলে।

চিড়িয়াখানার ডিরেক্টর কেকে সিং জানিয়েছেন, তিনজন পশু চিকিৎসক সারসটির উপর নজর রাখছে। এমন একটা খাঁচায় পাখিটাকে রাখা হবে যেখানে তাকে মানুষ দেখতে পায়। হয়তো ওদের দেখলে মন খারাপ ভালো হয়ে যাবে। তার জন্য স্পেশাল ডায়েটও করা হচ্ছে।

এদিকে বনদফতরের দাবি, পাখিটাকে পাওয়ার পরে আরিফের উচিত ছিল দফতরকে খবর দেওয়া।

আর আরিফের ভাষ্যমতে, আমি তো পাখিটাকে বেঁধে রাখিনি। ওটা  আমার সঙ্গে থাকত। আমার দোষটা কোথায়? আমি সারসটাকে সুস্থ করে ভেবেছিলাম জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে আসব। কিন্তু ও আমার বন্ধু হয়ে গেল। আমাকে ছেড়ে কোথাও যেত না। আমি কী করব?

তবে সব তর্ক বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে গত পরশু আরিফের বন্ধু সেই সারসটিকে চিড়িয়াখানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। শেষ হয় এক অবিশ্বাস্য বন্ধুত্বের গল্প।