আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে দেশে শুরু হতে যাচ্ছে করোনাভাইরাসের চতুর্থ ডোজের টিকাদান। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কোভিড টিকার চতুর্থ ডোজ প্রয়োগের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেছিল কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।
সেই সুপারিশের প্রেক্ষিতে আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হচ্ছে এ কার্যক্রম। তবে অন্যান্য ডোজের ন্যায় চতুর্থ ডোজ গণহারে দেওয়া হচ্ছে না। প্রথম ধাপে দ্বিতীয় বুস্টার বা চতুর্থ ডোজের টিকা পাবেন পাঁচ শ্রেণির মানুষ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে টিকা কেন্দ্রগুলোকে দ্বিতীয় বুস্টার বা চতুর্থ ডোজ প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে,প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মহামারির বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার দেশের জনগণকে দ্বিতীয় বুস্টার/চতুর্থ ডোজ টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নিম্নোক্ত নির্দেশনা মেনে আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
নির্দেশনাগুলো হলো:
১. চতুর্থ ডোজ হিসেবে ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে।
২. তৃতীয় ডোজ পাবার পর চার মাস অতিবাহিত হয়েছে এমন ব্যক্তিদের চতুর্থ ডোজ দেওয়া যাবে।তবে টিকা প্রদানের ক্ষেত্রে যে পাঁচ শ্রেণীর মানুষ অগ্রগণ্য হবেন তারা হলেন,
ক. ৬০ বছর এবং এর বেশি বয়সী ব্যক্তি।
খ. দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ১৮ বছর এবং এর বেশি বয়সী জনগন।
গ. স্বল্প রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী ।
ঘ. গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধদানকারী মা।
ঙ. সম্মুখসারির যোদ্ধা (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী; অনুমোদিত বেসরকারি ও প্রাইভেট স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা-কর্মচারী; প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত সকল সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত কর্মকর্তা-কর্মচারী; বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরঙ্গনা; সম্মুখ সারির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী; সামরিক বাহিনী: বেসামরিক বিমান; রাষ্ট্র পরিচালনার নিমিত্ত অপরিহার্য কার্যালয়; সম্মুখসারির গণমাধ্যমকর্মী; নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি: সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার সম্মুখসারির কর্মকর্তা-কর্মচারী; সব ধর্মের ধর্মীয় প্রতিনিধি: মৃতদেহ সৎকার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি; জরুরি বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, পয়োনিষ্কাশন ও ফায়ার সার্ভিসের সম্মুখ সারির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী; রেল স্টেশন, বিমানবন্দর, স্থল বন্দরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী; জেলা ও উপজেলায় জরুরি জনসেবায় সম্পৃক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী; ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী, জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও চিকিৎসা শিক্ষা সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে ছাত্র- ছাত্রী)।
দেশব্যাপী সিটি কর্পোরেশন/ জেলা/ উপজেলা/ পৌরসভা পর্যায়ে অবস্থিত সব স্থায়ী কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন সেন্টারে (সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতাল, সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ৫০০/২৫০/১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইত্যাদি) চলমান বুথে চতুর্থ ডোজ টিকা প্রদান করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিবেন প্রধানমন্ত্রী
স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনায় চতুর্থ ডোজ টিকাদানের জন্য রাজধানীর সাতটি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে।কেন্দ্রগুলো হল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারী, কুর্মিটালো জেনারেল হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
আরও পড়ুনঃ খুলনায় স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গনধর্ষণ
পরীক্ষামূলকভাবে প্রতিটি কেন্দ্রে ১০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে।মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে আগের দিন নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের টিকাদানের বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।পরীক্ষামূলক টিকা নেওয়াদের দুই সপ্তাহ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখা হবে তাদের। যদি কোনো ধরনের জটিলতা দেখা না দেয় তবে নতুন বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে।
